খাগড়াছড়ির দিঘীনালায় পরিবেশ রক্ষায় আনসার-ভিডিপির উদ্যোগে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

বিশেষ প্রতিনিধি, দিঘীনালা:–প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলায় পরিবেশের সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় এক বর্ণাঢ্য ও প্রশংসনীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) বিশেষ উদ্যোগে এই সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
​দিঘীনালা উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ডার মোস্তাকিমুল ইসলামের প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব, নির্দেশনা ও উপস্থিতিতে উপজেলার বেতছড়ি ভিডিপি ক্লাব প্রাঙ্গণ এবং এর আশপাশের উন্মুক্ত এলাকায় এই চারা রোপণ অভিযান পরিচালিত হয়। কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ এবং ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে, যা আগামী দিনে পরিবেশের নান্দনিকতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় বাস্তুসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখবে।
​এই পরিবেশবান্ধব অভিযানে স্বতঃস্ফূর্ত এবং প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ ছিল স্থানীয় ‘হিল ভিডিপি’ (Hill VDP)-র একদল তরুণ ও দক্ষ সদস্যের। তারা অত্যন্ত উদ্দীপনার সাথে নিজ নিজ হাতে গাছের চারা রোপণ করেন। মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের বিশ্বব্যাপী বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা করা, ক্লাবের আশপাশের পরিবেশকে সবুজে ছেয়ে দেওয়া এবং সবুজ ও সতেজ এক ভূখণ্ড গড়ে তোলার সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
​কর্মসূচি চলাকালে উপস্থিত সংবাদকর্মী ও সদস্যদের উদ্দেশ্যে উপজেলা কমান্ডার মোস্তাকিমুল ইসলাম বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বায়ুমণ্ডল সতেজ রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বসবাসযোগ্য সবুজ ভূখণ্ড গঠনে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি বাহিনী দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি নানা ধরনের সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। আমাদের এই ধারাবাহিক সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ ভবিষ্যতেও আরও জোরদার ও বিস্তৃত করা হবে।”
​তবে শুধু চারা রোপণ করেই এই কর্মসূচির ইতি টানা হয়নি। রোপণ করা প্রতিটি গাছের চারাই যাতে সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে এবং বৈরী আবহাওয়া থেকে সুরক্ষিত থাকে, সে জন্য হিল ভিডিপির সদস্যরা চারাগুলোর যথাযথ পরিচর্যা, নিয়মিত পানি দেওয়া এবং সার্বিক সুরক্ষার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
​আনসার-ভিডিপির এমন প্রশংসনীয়, দূরদর্শী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং বাহিনীর সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সাধুবাদ জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের ধারাবাহিক উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।