কয়রায় নদীতে ভাসমান বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ মেমোরিয়াল হাসপাতাল, সেবা পাচ্ছেন দুর্গম এলাকার মানুষ

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: তৌহিদুর রহমান শান্ত—খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের নয়ানী গ্রামের নদীতে ভাসমান বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ মেমোরিয়াল হাসপাতাল বাংলাদেশ-৪ (KAAP-MHB-4)-এর মাধ্যমে দুর্গম ও নদীবেষ্টিত এলাকার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, ভাসমান এই হাসপাতালটি নদীপথে প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে স্থানীয় মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে। গত ১৭ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ১৬৭ জন রোগীকে সেবা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালটি বর্তমানে এলাকায় অবস্থান করে প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে।

হাসপাতালটিতে সাধারণ রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ব্যথা ও সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা, চক্ষু চিকিৎসা এবং ডেন্টাল সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। নদীবেষ্টিত ও দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য কাছাকাছি এ ধরনের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ দেখা গেছে।

স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় রয়েছেন একজন মেডিকেল অফিসার, দুজন মেডিকেল সহায়ক, একজন ওটি কর্মী, একজন এক্স-রে কর্মী, একজন ফার্মাসিস্ট এবং একজন স্বাস্থ্য পরামর্শক। প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ভাসমান হাসপাতাল হওয়ায় নদীঘেরা এলাকার বাসিন্দাদের দূরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে যেতে সময় ও অতিরিক্ত যাতায়াত খরচের চাপ কিছুটা কমছে। বিশেষ করে চক্ষু, দাঁতের সমস্যা, শারীরিক ব্যথা এবং অন্যান্য সাধারণ রোগে স্থানীয়রা এ সেবা গ্রহণ করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীবেষ্টিত কয়রা উপজেলার অনেক মানুষ বিভিন্ন কারণে নিয়মিত দূরের হাসপাতালে যেতে পারেন না। এ অবস্থায় নদীর কাছাকাছি ভাসমান হাসপাতালের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় তারা উপকৃত হচ্ছেন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দুর্গম ও নদীবেষ্টিত এলাকার মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের ভাসমান স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখা হবে।